Floor plan Details/ ফ্লোর প্ল্যান এর বিস্তারিত
Floor plan Details/ ফ্লোর প্ল্যান এর বিস্তারিত:-
বেডরুমঃ একটা আবাসিক বিল্ডিংয়ের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে একটা থাকার ব্যবস্থা বা বেড রুম। থাকার ব্যবস্থা হলেই পরে তার সুবিধার জন্য অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলো দরকার হয় যেমন রান্না করে খাওয়ার জন্য রান্নাঘরের ব্যবস্থা, প্রকৃতির কাজে সারা দেয়ার জন্য টয়লেট এবং মেহমান আসলে তাদের আপ্যায়ন করার জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা যেমন ড্রয়িং রুম ইত্যাদি। তাই সবার আগে বেডরুম কে গুরুত্ব দেয়া উচিত।
মাস্টার বেডরুমটা হওয়া উচিত ফ্ল্যাটের এক কর্ণারে, যেন দুইপাশটাই খোলা থাকে। তাহলে সহজেই আলো-বাতাস রুমে আসতে পারে। তাহলে বসবাস অনেক আরামদায়ক হবে। একটা রুমের দুইপাশ দিয়েই যখন জানালা থাকে তখন বাতাস একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেকপাশে দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে, ফলে রুমটা সবসময় ঠান্ডা থাকে। বেডরুমের সাইজটা হওয়া উচিত নূন্যতম ১২ ফিট বাই ১২ ফিট, তবে একটু আয়তাকার হওয়াটাই ভালো। মাস্টার বেডরুমের সাথে অবশ্যই একটা বারান্দা থাকা উচিত। তাহলে অবসর সময়ে একটু সময় কাটানো যাবে, জামাকাপড় রোদে শুকানো যাবে ইত্যাদি। আরেকটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত মাস্টার বেডরুমের সাথে অবশ্যই একটা এটাস্ট টয়লেট থাকতে হবে। কেননা আপনি বা আপনার পরিবার যখন কমন টয়লেটে অতিথিদের সামনে দিয়ে যাবে তখন কিন্তু আপনারই খুব অস্বস্তি লাগবে। তাই এই বিষয়টা খেয়াল রাখা উচিত।
রান্নাঘরঃ বেডরুমের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব যে বিষয়টার প্রতি আসে তা হলো রান্নাঘর। কারণ যেখানে থাকার ব্যবস্থা হবে সেখানে অবশ্যই রান্নার ব্যবস্থাও করতে হবে। তাছাড়া বাসার মহিলাদের দিনের প্রায় সবটা সময়ই রান্নাঘরে কাটাতে হয়। মহিলাদের সবচেয়ে বেশি চাহিদার জায়গা থাকে রান্নাঘর। তাই ঘরের রমণীর মন পেতে হলে রান্নাঘরটা একটু বড় এবং সুন্দর হওয়া খুবই জরুরী।
প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে রান্নাঘরটা যেন মাস্টার বেডরুমের পাশে হয় এবং কখনোই যেন ড্রয়িং রুমের উপর দিয়ে রান্নাঘরে যেতে না হয়। তাহলে বাসায় মেহমান থাকলে মহিলারা রান্নাঘরে যেতে একটু অস্বস্তিবোধ করবে। রান্নাঘরের সাইজটা নূন্যতম ৬ ফিট বাই ৮ ফিট হয় উচিত এবং সাথে অবশ্যই একটা বারান্দা থাকা উচিত। রান্নাঘরে বারান্দায় সবচেয়ে বড় সুবিধা হল হাড়িপাতিল ধোয়া ও রাখার সুবিধা এবং ভিজা কাপড়চোপড় শুকানোর সুবিধা, যা অত্যন্ত দরকারি। যেই বিষয়টা অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেননা। রান্নাঘরে কিছু সেলফের ব্যবস্থা করা উচিত, যেন অতিরিক্ত হাড়িপাতিল গুলো সহজেই রাখা যায়।
টয়লেটঃ বেডরুম ও রান্নাঘরের পর যেই বিষয়টার গুরত্ব সবচেয়ে বেশি তা হল টয়লেট। কেননা থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা হলে প্রকৃতির ডাক আসবেই। তাই টয়লেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হল টয়লেটের মাধ্যমেই আপনার রুচিবোধের পরিচয় বাহিরের মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়। কেননা একজন মেহমান যখন আসে তখন আপনি আপনার বেডরুম কত সুন্দর করে সাজিয়েছেন তা কিন্তু দেখতে পায়না, দেখতে পায় শুধু ড্রয়িং এবং টয়লেট। টয়লেটে পরিবেশ এবং সাইজ যদি সুন্দর হয় তখন সহজেই আন্দাজ করে নেয়া যায় বাড়ির মালিকের মনমানষিকতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা এই টয়লেটেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি, ভাবি টয়লেট কোনোরকম একটা থাকলেই হল।
টয়লেটের সাইজটা হওয়া উচিত নূন্যতম ৪ ফিট বাই ৭.৫ ফিট। কমন টয়লেটটি অবশ্যই ড্রয়িং স্পেসের পাশে থাকা বাঞ্চনীয়, জেন্ মেহমানদেরকে একপাশ থেকে অন্যপাশে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে না হয়। এটাস্ট টয়লেটে কমোড ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কমন টয়লেটে প্যান বা লো কমোড ব্যবহার করা উচিত। কেননা কমন টয়লেট্ যেহেতু মেহমানরা ব্যবহার করবেন, তাই অনেকেই থাকতে পারেন যারা হাই কমোড ব্যবহার করে অভ্যস্থ না। তাই তাদের বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত।
ড্রয়িং ও ডাইনিংঃ একটা ফ্ল্যাটে ড্রয়িং ও ডাইনিং স্পেসের গুরুত্ব অপরিসীম। একটা ফ্ল্যাটের মূল সৌন্দর্য্য ফুটে উঠে মূলত ড্রয়িং ও ডাইনিং স্পেসের মাধ্যমে। একজন মেহমান আসলে প্রথমে তাকে আপ্যায়নটা করা হয় মূলত ড্রয়িং ও ডাইনিং স্পেসেই। তাই এই স্পেসের সৌন্দর্য্য-এর উপর বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত।
যদি জায়গা অপ্রতুল থাকে তাহলে ড্রয়িং ও ডাইনিং স্পেস আলাদা করা উচিত। কেননা ড্রয়িং রুমে মেহমান বসা থাকলে তখন কিন্তু পরিবারের লোকজন সেখানে ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেনা। তবে আমাদের সবারই যেহেতু জায়গার সীমাবদ্ধতা রয়েছে তাই এই বিষয়টা মাথায় রেখে ড্রয়িং ডাইনিং স্পেসটা একসাথে করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে স্পেসটা জেন্ একটু বড় হয় সেই বিষয়টা খেয়াল রাখা উচিত, সোফা সেট এবং ডাইনিং টেবিল একটু ফাঁকা রেখে সাজানো যায়। ডাইনিং স্পেসে আলো-বাতাসের যথেষ্ঠ ব্যবস্থা করা উচিত, যেন সবসময় স্পেসটা আলোকিত থাকে। সেইজন্য এই স্পেসের জানালাগুলো একটু বড় রাখা হয়।
ফ্ল্যাটের প্রবেশপথঃ ফ্ল্যাটের প্রবেশপথটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, কিন্তু আমরা কেউই এই বিষয়টা খেয়ালই করিনা। নিজের বুদ্ধিতে বিল্ডিং করার পর অনেকেই আসেন বেডরুমের ভিতর দিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকতে হয়, যা আমার ভালো লাগেনা। তখন আসলে কিছুই করার থাকেনা। তাই এই বিষয়টাতে আগেই সাবধান হয় উচিত।
জায়গায় সম্ভব হলে ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখে ছোট আলাদা একটু জায়গা রাখা উচিত, যার মধ্যে আলাদা দুইটা প্রবেশপথ থাকবে। এরফলে সবচেযে বড় যে সুবিধাটা পাওয়া যাবে তাহলো একটা প্রবেশপথ দিয়ে মেহমানরা ড্রয়িংরুমে চলে যাবে আর আরেকটা প্রবেশপথ দিয়ে আপনি বা আপনার পরিবারের লোকজন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে পারবেন। আমাদের পরিবারের অনেক মহিলারাই অন্য মানুষদের সামনে পরতে চাননা, আলাদা প্রবেশমুখ রাখলে এই প্রাইভেসিটা রক্ষা করা সম্ভব হয়। তাছাড়া জুতা রাখার জন্য প্রবেশমুখের ওই আলাদা স্পেসে সেলফ রাখা যায়, ফলে ফ্ল্যাটের সৌন্দর্য্য অনেকগুন বেড়ে যায়। তবে এই জায়গাটা অবশ্যই আপনারা ফ্ল্যাটের ভিতরে হবে।
For contact .....
Click here to see us on Facebook page
AR Design World
Singra, Natore, Rajshahi, Bangladesh
Phone: - +8801778541171

Comments
Post a Comment